গাজীপুর বিআরটিএ দালাল সিন্ডিকেট এর মূল হোতা অফিস প্রধান নুরুল ইসলাম।
গাজীপুরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী মারনুজ রহমান, অফিস সহকারী স্বপন হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা আদায়, নিয়মিত অফিস না করা এবং দাপ্তরিক কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ত রাখার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম নিয়মিত অফিস করেন না। তিনি অফিসে এলে আফজাল, রুহুল ও কমল নামের কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আফজ, রুহুল ও কমল গাজীপুর বিআরটিএর চিহ্নিত দালাল। ওই ব্যক্তিরা নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে পরিচিত।তাদের মাধ্যম ছাড়া কোন সেবা গ্রহীতা সরাসরি কোন সেবার জন্য গেলে মেলে না কাঙ্খিত সেবা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরেজমিনে গাজীপুর বিআরটিএ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সময়ই অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন গাজীপুর বিআরটিএর প্রধান নুরুল ইসলাম। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর অফিসকক্ষে ঠিকই ভৌতিকভাবে ব্যবহার হতো লাইট, ফ্যানসহ ইলেকট্রিক আসবাবপত্র। কে বা কারা এই লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ অপচয় করছেন, তার উত্তর মেলেনি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে।
এছাড়াও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে যেকদিন অফিসে ছিলেন এই কর্মকর্তা, সেদিনগুলোতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চেয়ে তাঁর কক্ষে ভিড় ছিল দালালদের বেশি। ফিটনেস, রুট পারমিটসহ সব ধরনের সেবার জন্য তাঁর রুমে সাধারণ সেবাগ্রহীতার চেয়ে বেশি ভিড় করেন দালালেরা। বর্তমানে গাজীপুর বিআরটিএতে প্রচলিত আছে, দালাল ছাড়া সেবা নিতে গেলে সেবা তো দূরের কথা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথাই বলা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর বিআরটিএর একটি সূত্র বলছে, এই কার্যালয়ে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বন্ধ থাকলেও আফজাল, রুহুল ও কমলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদান করছেন সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম। আর এই বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য তিনি দালালদের মাধ্যমে নিচ্ছেন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্সের নামের অমিল কিংবা জরুরি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের ক্ষেত্রে তিনি আদায় করছেন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকলেও এই কর্মকর্তা তাঁর সরকারি সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে রেখেছেন দালালদের হাতে। আর তাঁর অনুপস্থিতিতে সরকারি এই স্পর্শকাতর সার্ভার ব্যবহার করছেন দালালেরা। এতে তৈরি হয়েছে নানা বিধিগত ঝুঁকি।
এদিকে, গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আবুল হোসেন। অভিযোগে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং এর মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষের লেনদেনে তিনি ভূমিকা পালন করছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হয় সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামের সঙ্গে। তবে তিনি মুঠোফোন কল কিংবা ক্ষুদে বার্তার কোনোটিরই উত্তর দেননি। গত রোববার ও সোমবার তাঁর অফিসে কয়েক দফা গিয়েও তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
উচ্চমান সহকারী মারনুজ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে মাত্র ১৫ দিন আগেই গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগদান করেছেন উচ্চমান সহকারী মারনুজ রহমান। এরই মধ্যে অফিস ফাঁকি দিয়েছেন অন্তত পাঁচ দিন। কোনো নোটিশ ছাড়াই নিজের মনমর্জিমতো ছুটি কাটান এই কর্মচারী ।এমন টাই দাবি করেছেন গাজীপুর বিআরটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের দাবি, বাকি যেকদিন অফিস করেছেন, প্রতিদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন চারজন বহিরাগত ব্যক্তি। তাঁদের নাম-পরিচয় কী, তা জানেন না গাজীপুর বিআরটিএর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, এই উচ্চমান সহকারী যেদিন কার্যালয়ে আসেন, সঙ্গে করে নিয়ে আসেন চারজন বহিরাগত ব্যক্তিকে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ও করা হয় বলে জানান তাঁরা।
এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে মারনুজ রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি গত রোববার ও সোমবার তাঁর কার্যালয় গাজীপুর বিআরটিএতে কয়েক দফা গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক অভিযোগ পাওয়া গেছে গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের অফিস সহকারী স্বপন হোসেনের বিরুদ্ধে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহতদের ফাইল পাস করিয়ে দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ওই উপজেলার বড়ইবাড়ী গ্রামের মো. দুলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। নিহতের পরিবার পুলিশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানতে পারে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এ তথ্য জানার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাজীপুর বিআরটিএতে আবেদন করেন তাঁরা। সেই আবেদনের ফাইল এসে আটকে পড়ে অফিস সহকারী স্বপনের হাতে। দীর্ঘদিন এই কর্মচারীর দুর্ভোগের শিকার হতে থাকে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে প্রতিবারই দুর্ব্যবহার ও অসৎ আচরণের শিকার হয়ে ফিরেছেন নিহতের মেয়ে রানু, তাঁর ভাই ও তাঁর স্বামী। সর্বশেষ এই ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে কয়েক দফা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন অফিস সহকারী স্বপন। স্বপনের টাকা চাওয়ার বিষয়টি তাঁরা কর্ণপাত না করে বারবার তাঁর কাছে সহায়তার আশায় যান ভুক্তভোগী পরিবারটি। কিন্তু প্রতিবারই রাগারাগি ও উচ্চবাচ্য শুনে আসতে হয় তাঁদের।
ভুক্তভোগী রানু অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে আমাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছেন। আমরা বুঝতে পেরেছি, তিনি টাকা চাচ্ছেন। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, আমরা দিন আনি দিন খাই। ৩০ হাজার টাকা দেব কোথা থেকে? তাই তাঁর টাকা চাওয়ার বিষয়টি বুঝেও না বোঝার ভান ধরে বরাবর তাঁর কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি বরাবরই আমাদের সঙ্গে অসৎ আচরণ করেছেন। পরে আমরা ঢাকার বিরাটির হেডকোয়ার্টারে গিয়ে আবেদনের সব কার্যক্রম শেষ করে অনুদানের চেক নিয়ে আসি।
স্বপনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ হরহামেশাই উঠে আসছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটাতেই কর্ণপাত করেন না গাজীপুর বিআরটিএর অফিসপ্রধান।
অনুসন্ধানে হাতে আসে একটি অডিও ক্লিপ। যেখানে অফিস সহকারী স্বপন এক গ্রাহককে বলছেন, গাজীপুর বিআরটিএ থেকে কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করাতে হলে তাঁর মাধ্যমে করাতে হবে। তাঁকে ছাড়া কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সই প্রিন্ট হবে না বলেও তিনি ওই সেবাগ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে শোনা যায়। কথোপকথনের ওই অডিও ক্লিপে শোনা যায়, তিনি এসব কাজ করে (ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট) আহামরি লাভ হয় না, ১ হাজার টাকা লাভ হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় স্বপনের সঙ্গে। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব কিছুর সঙ্গে জড়িত নন।
অপরদিকে, গত দুই বছর ধরে গাজীপুর বিআরটিএতে কর্মরত আছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুর রহমান। এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আছে, তিনি ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হাতে তোলেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেবাগ্রহীতারা তাঁর কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি তাতে কোনো আগ্রহ দেখান না। পকেট থেকে কড়কড়ে ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট দিলেই দ্রুতগতিতে কাজ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় টাকা দিয়েও ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।
গাজীপুর বিআরটিএর বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহফুজুর রহমান টাকা ছাড়া যেন কিছুই চোখে দেখেন না। ফিটনেস কিংবা রুট পারমিট—যেকোনো সেবার জন্য তাঁর কাছে গেলেই আগে গুনতে হয় টাকা। টাকা না দিলেই তিনি ঘুম ঘুম ভাব ধরেন, নয়তো তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে অযথাই বাইরে ঘোরাঘুরি করেন। আর হাতের মুঠোয় টাকা গুঁজে দিলেই তাৎক্ষণিক সব কাজ হয়ে যায়।
অনুসন্ধানে হাতে আসে ঘুষ আদায়ের দুটি ভিডিও ক্লিপ। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাহফুজুর রহমান সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করছেন। যদিও এসব ভিডিও ও ভুক্তভোগীদের তথ্য-প্রমাণ অস্বীকার করেছেন মাহফুজুর রহমান।
তাঁর ভাষ্যমতে, একটি কুচক্রী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে এসব ভিডিও ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
মাহফুজুর রহমানের ঘুষ আদায়ের বিষয়টি এখন গাজীপুর বিআরটিএতে ওপেন সিক্রেট। সবকিছু জেনেও অফিসপ্রধান বরাবরই নিশ্চুপ থাকেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রচলিত আছে, গাজীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামের ‘মাই ম্যান’ হিসেবে পরিচিত এই মাহফুজুর রহমান।
যে কারণে বরাবরই ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংবাদ প্রকাশ হলেই মাহফুজুর রহমান কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে পার পেয়ে যান।
গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সেবাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যানবাহনের মালিকেরাও। ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী একটি বাসের মালিক মো. মিরাজ মিয়া বলেন,গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে গেলে মনে হয়, এটি ঘুষ আর অনিয়মের আখড়া। এখানে নিয়ম মেনে কাজ করাতে গেলেও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। টাকা ছাড়া যেন কোনো কাজই এগোতে চায় না। গাড়ির কাগজপত্রের কাজ করতে এসে একজন মালিককে যদি প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার চিন্তা করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সেবা পাবে কীভাবে? এই অনিয়ম বন্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গাজীপুর সিএনজি মালিক সমিতির নেতা মো. মিলন মিয়া বলেন,গাজীপুর বিআরটিএতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, সেবা নিতে গেলে মনে হয়, নিঃশ্বাস নিতেও টাকা দিতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ না দিলে অনেক সময় কাজ করানোই কঠিন হয়ে পড়ে। গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন কাজে মালিকদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা চাই, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দালালনির্ভরতা বন্ধ হোক এবং ঘুষ-অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সচেতন নাগরিক ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দালালনির্ভরতা বন্ধ, সেবার নির্ধারিত ফি প্রকাশ এবং আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।







