গাজীপুরে ১৯ জন পেলেন কৃত্রিম পা,২৪ জন প্রতিবন্ধী পেলেন চাকুরী।
পঙ্গুত্বের অভিশাপ যাদের জীবনের গতি থামিয়ে দিয়েছিলো, এক পশলা বৃষ্টির মতো তাদের জীবনে আনন্দ হয়ে এলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে টঙ্গীর জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের আঙিনায় এক অন্যরকম ‘হৃদয়ের মিলনমেলা’ বসেছিলো। সেখানে ১৯ জন মানুষ ফিরে পেলেন হারিয়ে ফেলা পা, আর ৩৪ জন পেলেন নতুন জীবনের দিশা—একটি সম্মানজনক চাকুরির নিয়োগপত্র।
অনুষ্ঠানে যখন ১৯ জন পুরুষ ও মহিলার শরীরে অত্যাধুনিক কৃত্রিম পা সংযোজন করা হচ্ছিলো, তখন পুরো পরিবেশ ছিলো নিস্তব্ধ। নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া কেবল একজন প্রশাসক হিসেবে নয়, বরং একজন বড় ভাইয়ের মতো প্রতিটি মানুষের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। যারা কোনোদিন উঠে দাঁড়াতে পারবে ভাবেনি, তাদের হাত ধরে সাহস দেন। আবেগ এতোটাই গাঢ় ছিলো যে, পা হারানো প্রতিবন্ধীদের তিনি পরম মমতায় বুকে টেনে নিলেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন হৃদ্যতায় উপস্থিত অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক তাদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বসেন। তিনি প্রতিটি টেবিলে গিয়ে তাদের স্বপ্নের কথা শোনেন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণরতদের কথা দেন—প্রশিক্ষণ শেষে তাদের প্রত্যেকের হাতে পৌঁছে যাবে বিনামূল্যে কম্পিউটার সামগ্রী। পঙ্গুত্ব জয় করা এই মানুষগুলো এখন আর সমাজের বোঝা নয়, বরং নিয়োগপত্র হাতে একেকজন আত্মবিশ্বাসী যোদ্ধা।







