বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেড়ায় সুষ্ঠু ভাবে বিজয়া দশমী সম্পন্ন কাজিপুরে বিষপানে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা। বেড়ায় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় ৩ জনের কারাদণ্ড সহ ৭ লাখ টাকা জরিমানা। দৈনিক কালবেলার অগ্রযাত্রার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে কোনাবাড়ীতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। গাজীপুর বিআরটিএ দালাল সিন্ডিকেট এর মূল হোতা অফিস প্রধান নুরুল ইসলাম। ওয়ালটন প্লাজা-জিরানী বাজার শাখার আয়োজনে মৃত ক্রেতার পরিবার ও ক্রেতার স্ত্রীকে নগদ এক লাখ টাকা প্রদান।  গাজীপুরে প্রতারণার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য  কারাগারে। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সদা প্রস্তুত বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন বিজিবি। কালিয়াকৈরে বেগম সুফিয়া মডেল হাই স্কুলে বার্ষিক অভিভাবক দিবস উদযাপন। বেড়ায় হাত ধোয়া দিবস পালিত

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৯ শতাংশ

রিপোর্টারের নাম : / ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২২

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেছেন, বাংলাদেশের মধ্য আয়ের এবং ঋণের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে শুধু ভ্যাটনির্ভর হয়ে থাকলে চলবে না। বাড়াতে হবে করজাল। সেই সঙ্গে কর আদায়ের খরচ কমাতে হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে বুধবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০২২ (এডিও) প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় জানানো হয়, বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে, গত অর্থবছর যা একই ছিল। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট চুন চান হোং। বিফ্রিং পরিচালনা করেন এডিবির বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, শ্রীলংকার আজকের অবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এক্ষেত্রে আর্থিক ও ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এছাড়া একটি দক্ষ সরকার ব্যবস্থাপনাও এ রকম পরিস্থিতি উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ। এডিবি ভাবছে কিভাবে শ্রীলংকার এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা যায়।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদন তুলে ধরে চুন চান হোং বলেন, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অর্থনীতি আক্রান্ত। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জলবায়ু পরিবর্তন ও চলমান করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ দরকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এছাড়া শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রপ্তানি বহুমুখী করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের শক্তিশালী ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। যেমন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মধ্যে পড়বে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ আমদানি ব্যয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে তার ওপর নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি কতটা অর্জিত হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কমে গিয়ে বিশ্বব্যাপী ভোগ-ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় অঙ্কের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পরও ডলারের বিপরীতে টাকাকে দুর্বল করতে পারে। মূল্যস্ফীতির বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে এর আগের বছরের তুলনায় মুদ্রাস্ফীতির হার কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও চলতি অর্থবছর তা বেড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেটি কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। এদিকে, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চলতি হিসাবে ঘাটতি জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা গত অর্থবছরে ছিল মাত্র ০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী অর্থবছর এ ঘাটতি হতে পারে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেন, চলমান আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে হবে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, বেসরকারি খাতকে পণ্য ও পরিষেবা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা, আধুনিক সবুজ প্রযুক্তির প্রচার এবং জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং পরিষেবা তৈরি, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর কার্বন ট্যাক্স প্রবর্তন এবং সবুজ বিনিয়োগে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন পরিচালনার জন্য বর্তমান নীতি উদ্যোগগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর বেসরকারি বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ এবং শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী পণ্য আমদানিতে একটি দৃঢ় বৃদ্ধি প্রতিফলিত করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর