শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বেড়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির মতবিনিময় সভা কাজিপুরে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ২ জন আটক  কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরল বেড়ার চরাঞ্চলের চিনাবাদাম খেতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেগ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত গ্র্যাজুয়েশন দিবস।  গাজীপুরে ১৯ জন পেলেন কৃত্রিম পা,২৪ জন প্রতিবন্ধী পেলেন চাকুরী। অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জিএমপির তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার। বেড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অটোরিকশা চালকের গ’লাকা’টা মর’দেহ উদ্ধার সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় কমলগঞ্জ

রিপোর্টারের নাম : / ২৫০ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা। মৌলভীবাজার জেলার সর্বাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে এই কমলগঞ্জ উপজেলায়। পর্যটন ক্ষেত্রের অপার সম্ভাবনাময় এই উপজেলায় ২০টিরও বেশি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে।

জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষীনারায়ন দিঘী, ২শ বছরের প্রাচীন ছয়চিড়ী দিঘী, শমসেরনগর বাগীছড়া লেক, আলীনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, অপরূপ শোভামন্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেষ্টিত সারিবদ্ধ চা বাগানসহ বাংলাদেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরী সম্প্রদায়ের নিরাপদ আবাসস্থল এ উপজেলায়।

এছাড়া প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীসহ গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মণিপুরী, টিপরা ও গারোদের নিরাপদ আবাসস্থলও রয়েছে এই উপজেলায়।

নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যে একটু ছুটি মিললেই অনেকেই ছুটে যান সাগর-পাহাড়-অরণ্য ও ঐতিহ্যের সান্নিধ্যে। ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোও মুখরিত হয় পর্যটক দর্শনার্থীদের পদভারে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপসজ্জা দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা। আর এই ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে কমলগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটন রাজ্য কমলগঞ্জের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে ছুটে আসেন নানা শ্রেণি পেশার হাজার হাজার পর্যটক। শুধু দেশি পর্যটকই নয় বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয় উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

উপজেলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি কমলগঞ্জের বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দর্শনীয় ও আকর্ষণীয়। বাংলাদেশের সাতটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও দশটি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। এই বনের পরিচিতি শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সুন্দরবনের পরেই লাউয়াছড়ার অবস্থান। চিরহরিৎ এ বনাঞ্চল বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের নিরাপদ আবাসস্থল।

এছাড়াও নানা ধরণের দুর্লভ প্রাণী, কীটপতঙ্গ আর গাছপালার জন্য এ অরণ্য বিখ্যাত।

এ উপজেলায় পাহাড়ি উঁচুনিচু টিলার উপর সবুজ চা বাগানবেষ্টিত, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য আপনাকে আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করবে পদ্মকন্যা মাধবপুর লেক। মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে বেরিয়ে এসে একই রাস্তায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যাওয়ার পরই রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ।

কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাতের ধ্বনিকে হামহাম বলে। এ বনের ভেতরেই রয়েছে সম্প্রতি আবিষ্কৃত ফিকল ঝরনা। বনের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জির পাশেই দৃষ্টি নন্দন এ ঝরনার অবস্থান। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। বাসে এবং সিএনজি যোগে কুরমা চেকপোস্ট যাওয়ার পর বাকি পথ হেঁটে যেতে হয় হামহাম জলপ্রপাত ও ফিকল ঝরনায়। হামহাম জলপ্রপাতে ভ্রমণ করতে পুরো একদিনের প্রয়োজন।

এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে গড়ে ওঠা একটি বিশালাকার বিমানবন্দর রয়েছে শমশেরনগরে। বর্তমানে এখানে রিক্রুট ট্রেনিং স্কুল করায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত হলেও এ এলাকা সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি বধ্যভূমি। এ উপজেলার আরেকটি আকর্ষণীয় স্পট হচ্ছে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া খাসিয়াপল্লী। যদিও ডবলছড়া খাসিয়াপল্লী যেতে পাহাড়ি উঁচু-নিচু প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। তবে পথিমধ্যে শমশেরনগর চা বাগানের দুটি প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোনো পর্যটকের নজর কাড়বে।

ডবলছড়া খাসিয়া পল্লীতে আড়াই’শ ফুট উপরের হেডম্যান বা মন্ত্রীর বাংলোটি দেখতে খুবই সুন্দর। এ ছাড়াও ভ্রমণের জন্য রয়েছে- কমলগঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের নীরব সাক্ষী বধ্যভূমি, ব্রিটিশদের শোষণের প্রতীক তিলকপুর নীলকুটি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, মণিপুরী, টিপরা, খাসিয়া, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আবাসভূমি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর