শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সুন্দরগঞ্জে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বেড়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির মতবিনিময় সভা কাজিপুরে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ২ জন আটক  কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরল বেড়ার চরাঞ্চলের চিনাবাদাম খেতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেগ-উচ্ছ্বাসে উদযাপিত গ্র্যাজুয়েশন দিবস।  গাজীপুরে ১৯ জন পেলেন কৃত্রিম পা,২৪ জন প্রতিবন্ধী পেলেন চাকুরী। অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জিএমপির তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার। বেড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অটোরিকশা চালকের গ’লাকা’টা মর’দেহ উদ্ধার সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

কাজিপুরে জাতীয় দিবসে ব্যাজ বৈষম্য বিতর্কে ইউএনওর সংবাদ বয়কট

রিপোর্টারের নাম : / ১২৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও স্বপ্রণোদিত প্রদেয় তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ বয়কট করেছে কাজিপুর প্রেস ক্লাব। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধায় কাজিপুর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ইউএনওর তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে জানা গেছে।

কাজিপুর প্রেস ক্লাব সূত্র জানা যায়, ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারি বিধি মোতাবেক নানা‌ আয়োজন করে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় আমন্ত্রিত ও আগত অতিথিদের জন্য তুলনামূলক অনুন্নত কিংবা কমদামি ব্যাজ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উন্নত মানের ব্যাজ পরিধানের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সমালোচনা উঠে, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে। সচেতন মহল জানান, আলংকারিক ফিতা ব্যাজ, যা সাধারণত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কার, বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বুকের বাম পাশে বা গলায় পরানো হয়। অথবা সম্মাননা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা অতি প্রচলিত একটি রেওয়াজ। একই অনুষ্ঠানে আয়োজকদের জন্য আলাদা কিংবা তুলনামূলক দামি ব্যাজ অনেকটা বৈষম্য বা বিভাজনের মতো।

কাজিপুর ইউএনও এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে গঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি লিখেন “এক গ্লাসের অর্ধেক গ্লাস পানি ভর্তি গ্লাসকে কে বলবে অর্ধেক পানি আর কেউ বলবে অর্ধেক শুন্য। এটা যার যার দেখার দৃষ্টিভংগী! উন্নত বা অনুন্নত  যার যার ব্যক্তিগত চিন্তা। প্রশাসন ৫০০ জনের ব্যাজ ক্রয় করতে গিয়ে বাজারে যতটা এভেইএবল পেয়েছে সেটাই সংগ্রহ করেছে। মাঝে মধ্যেই স্কাবিসের প্রাদুর্ভাব লক্ষনীয়”। ইউএনওর বক্তব্যের শেষের বাক্য নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া উঠে এবং তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানান তারা। নিন্দা ও প্রতিবাদে মূখর রয়েছেন তারা। প্রতিকারে জরুরী সভার আয়োজন করে কাজিপুর প্রেস ক্লাব। সভা শেষে কাজিপুরের লেখক সাংবাদিক আল মাহমুদ সরকার জুয়েল বলেন, এটা ইউএনওর উদ্ধতপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক আচরণের বহিঃপ্রকাশ,  নিজেকে সেবক ভাবছেন না। তীব্র প্রতিবাদ জানাই, প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। কাজিপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুস সোবহান চাঁন বলেন, সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গী স্কাবিসের সাথে তুলনা করা  দায়িত্বশীল ব্যক্তির অসাংবিধানিক আচরণ।

একই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও চাইলেই এই পার্থক্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। উল্টো ক্ষেপে গিয়ে সাংবাদিকদের স্কাবিস বলেছেন তিনি। এটা বোধগম্য নয়। এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই আমি।

কাজিপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম এ ঘটনা অগ্ৰহণযোগ্য উল্লেখ করে নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন শিঘ্রই পরবর্তী কর্মসূচি আসছে। কাজিপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিল বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে, কাউকে আক্রমণ করে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারতো, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্না বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শোভনীয় নয়, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

জরুরী সভায় কাজিপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে  সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সহ সভাপতি আল মাহমুদ সরকার জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আবু তৈয়ব সুজয়, কার্যকরী সদস্য টি এম কামাল এবং গোলাম কিবরিয়া খান, সদস্য আমিনুল ইসলাম উপস্থিত এবং অন্যান্য সদস্যগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে সরকারি বিধি মোতাবেক নানা‌ আয়োজন করে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় আমন্ত্রিত ও আগত অতিথিদের জন্য তুলনামূলক অনুন্নত কিংবা কমদামি ব্যাজ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উন্নত মানের ব্যাজ পরিধান করায় সমালোচনা উঠে। এর আগে গত ২০২৫ সালের বিজয় দিবস উদযাপনে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন প্যানা প্রিন্ট করে অত্যন্ত নিম্নমানের ব্যাজ তৈরি করে, যা দুপাশ থেকে ভাঁজ হয়ে যেতো। এটা নিয়েও সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা উঠে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর