শিরোনামঃ
মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা ঘোষণা বাণিজ্য বাধা দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সব বাড়ির মালিককে করের আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা রেমিট্যান্সে ভর করে বাড়ল রিজার্ভ হাঁড়িভাঙা আম ও সবজি সংরক্ষণে দেশের প্রথম বিশেষায়িত হিমাগার হবে মিঠাপুকুরে ঢাকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চুক্তিতে আগ্রহী রোম। সৌদিপ্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সব অর্জন বদলে যাচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা সলঙ্গায় মরহুম সেরাজুল ইসলাম ও আবু বক্কার চেয়ারম্যানের স্মৃতি স্বরণে ফুটবল টুর্নামেন্ট সলঙ্গার ধুবিল মেহমানশাহী উচ্চ বিদয়ালয়ে পরিক্ষার আগেই অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ বিয়ে বাড়িতে উচ্চ আওয়াজে বক্স বাজাকে কেন্দ্র করে আহত-১০ বেনাপোলে ঈদের ছুটিতে ভারত ভ্রমণ, ফেরায় স্থল বন্দরে যাত্রীদের চাপ গরিবের বিচার নেই-গরিবের বিচার ভগবানই করবে! উল্লাপাড়ায় কৃষি মেলার উদ্বোধন সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের পাশে আনসাররা কৃষিতে বকেয়া ভর্তুকি : ১০ হাজার কোটির বন্ড ইস্যু করছে সরকার ঈদকে ঘিরে রেমিট্যান্স বেড়েছে দেশে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের তিন প্রধান কারণ শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত

পয়লা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন: প্রধানমন্ত্রী

কলমের বার্তা / ১৩৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে সবাইকে নব-আনন্দে জেগে ওঠার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, বাঙালির মহামিলনের দিন। এদিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণে, নব-অঙ্গীকারে। সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে সবাইকে আজ নব-আনন্দে জেগে ওঠার উদাত্ত আহ্বান জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণে বর্তমান বিশ্ব বিপর্যস্ত। করোনা মহামারির কারণে গত দু’বছর উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতিকে পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন করতে হয়েছে ঘরবন্দি অবস্থায়। আশা করছি এ বছরের পয়লা বৈশাখ আবার আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।

পয়লা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। মোগল সম্রাট আকবর ‘ফসলি সন’ হিসেবে বাংলা সন গণনার যে সূচনা করেন- তা সময়ের পরিক্রমায় আজ সমগ্র বাঙালির কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালির আত্মপরিচয় ও শেকড়ের সন্ধান মেলে এর উদযাপনের মধ্য দিয়ে। পয়লা বৈশাখের দিকে তাকালে বাঙালি তার মুখচ্ছবি দেখতে পায়। বৈশাখ আমাদের নিয়ে যায় অবারিতভাবে বেড়ে ওঠার বাতায়নে, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে, অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে ঔপনিবেশিক শক্তি বাঙালির ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করতে চেয়েছে। বাঙালিরা দুর্বার প্রতিরোধে আত্মপরিচয় ও স্বীয় সংস্কৃতির শক্তিতে তা প্রতিহত করেছে। সেই শক্তিকে ধারণ করে শামিল হয়েছে মুক্তির সংগ্রামে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিলিত স্রোত পরিণত হয়েছে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে। এভাবেই বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো কর্তৃক পয়লা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নববর্ষের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন। এই পথ বেয়ে বিশ্বসমাজে বাঙালি হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ জাতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পয়লা বৈশাখ নতুন ভাবনা, নতুন এক মাত্রা নিয়ে আসে আমাদের মাঝে। আমরা সৌভাগ্যবান যে ২০২০-২১ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যুগপৎভাবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছি। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা উদযাপন করছি মহান ভাষা আন্দোলনের হীরকজয়ন্তী। বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, বাঙালি বীরের জাতি হিসেবে তার অর্জন ও অগ্রগতি চির ভাস্মর হয়ে থাকবে যুগ যুগান্তর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রের ভাবাদর্শে আজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন তারও মূলমন্ত্র জাতিগত ঐতিহ্য ও অহংকার। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের মূলসূত্র নিহিত আছে জাতিগত বিকাশ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিতে। সেই আদর্শে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, দেশ পুনর্গঠনে কাজ করেছে তার অভিন্ন চেতনা। একইসঙ্গে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ তথা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ তথা সুখী-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের বৈশাখ হবে আমাদের জন্য বিপুল প্রেরণাদায়ী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরের গ্লানি, পুরাতন স্মৃতি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাবো – এবারের নববর্ষে এ হোক আমাদের প্রত্যয়ী অঙ্গীকার। কবি গুরুর ভাষায়, যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি/যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক, যাক যাক/ এসো, হে বৈশাখ এসো, এসো…

91


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর