একটি ঘর বদলে দিল একটি পরিবারের জীবন ; মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাজী আব্দুল মোমিন
আল-আমিন, উল্লাপাড়া:
স্বামী হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের রাজমান দহিকোলা গ্রামের অসহায় বিধবা নুরজাহান। পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হতো, সেখানে জরাজীর্ণ ঘর মেরামতের কথা ছিল কল্পনাতীত। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আর সেই পানির মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে রাত কাটাতে হতো তাকে।
নুরজাহানের এমন অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে বিশিষ্ট সমাজসেবক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আব্দুল মোমিন নিজ অর্থায়নে তার জন্য একটি নতুন ঘরের ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি তিনি নুরজাহানের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন, যাতে তিনি সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
এ সময় নুরজাহান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি কখনো ভাবিনি আমার জন্য কেউ একটি ঘর তৈরি করে দেবে। আল্লাহযেন হাজী আব্দুল মোমিনকে উত্তম প্রতিদান দেন।
শুধু একজন অসহায় বিধবার পাশে দাঁড়ানোই নয়, একই সময়ে হাজী আব্দুল মোমিন স্থানীয় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি পার সোনতালা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা মেরামতের জন্য অর্থ সহায়তা করেন। এছাড়া বালসাবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার এক ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার জন্যও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
স্থানীয়রা জানান, হাজী আব্দুল মোমিন দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত অর্থায়নে অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, বসতঘর নির্মাণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।
এ বিষয়ে হাজী আব্দুল মোমিন বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সমাজের বিত্তবানরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজে কষ্টে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তার এ মানবিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।







