কাজিপুরে প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেনে অনিয়ম চরমে
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রিপারেটরি স্কুল গান্ধাইল শাখার বিরুদ্ধে সরকারি বোর্ড বই না পড়ানো, অনুমতি ব্যতিরেকে সওজ এর সড়কে বিধিবহির্ভূতভাবে গতিরোধক বসানো, অতিরিক্ত টাকা আদায়, বাধ্যতামূলক কোচিং করানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যবসা কেন্দ্রীক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে, মঙ্গলবার দুপুরে প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রিপারেটরি স্কুলের গান্ধাইল শাখার ২য় শ্রেণিতে সরকারি বোর্ড বইয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রকাশনীর নোট বই পড়াতে দেখা যায়। এছাড়াও স্কুলেই চলছিলো বাধ্যতামূলক কোচিং ক্লাস। এ সময় একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খুবই নিম্নমানের প্রকাশনীর নোট বই উচ্চ দরে কিনতে বাধ্য করে তারা। এ সময় তারা আরো জানান, ৫০০ টাকা স্কুলের বেতন হলে কোচিং ৫০০ এবং প্রতিমাসে পরীক্ষার নামে আরো অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। যা নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারের জন্য নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। শিক্ষার নামে ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নৈতিকতা শেখানো উচিত। কিছুদিন আগে স্কুলের একজন শিক্ষক ক্লাসে এক শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীর বাসায় না জানানোর নির্দেশ দেয়। আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল পার্শ্ববর্তী একাধিক দোকানদার জানান, হরহামেশাই স্কুলের গেটে শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। একজন দারোয়ান রাখার খরচ বাঁচাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজের খরচে গেটের সামনে সড়ক ও জনপথের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কে অনুমতি না নিয়ে গতি রোধক বসিয়েছে, যা, বিধিবহির্ভূত এবং সড়কটিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় অটো রিকশা চালক মালেক বলেন, অস্বাভাবিক গতি রোধকের জন্য যানবাহনে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, এছাড়াও ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। প্যারামাউন্ট কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রিপারেটরি স্কুলের পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন থেকে পাওয়া বই ক্লাসে পড়ানো হয়। গতি রোধক নির্মানে সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয় নি। প্রয়োজন তাই দিয়েছি, বৈধ অবৈধ জানিনা। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সাইদ বিষয়টি অবগত নন বলে জানান।







