বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
গাকৃবিতে সয়াবিন গবেষণার উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত।  বাউবির মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে উপাচার্যের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বাউবির এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান। বাউবির এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা, ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ বেড়ায় খাল পুনঃ খননের কাজের উদ্বোধন বেড়ায় হাট বাজারে মাছ সংকট বিপাকে ক্রেতা বিক্রেতা  কালিয়াকৈর পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষ। চার বছর পর ন্যায়ের জয়: জয়পুরহাটে চেয়ারম্যানের চেয়ারে আতাউর রহমান”

বাউবির এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান।

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব ল-এর অধীনে পরিচালিত এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থীদের ‘বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার  (০৭ মে ) সকাল ১০ টায় ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাউবির এলএল.বি (অনার্স) ৮ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সনদ অর্জন নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। মানুষ জন্মগতভাবে মানুষ হলেও প্রকৃত মানুষ হতে হলে জ্ঞান চর্চা, সদিচ্ছা ও দেশপ্রেমের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাউবির কার্যক্রম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিস্তৃত হয়েছে এবং অনেক শিক্ষার্থী প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। বাউবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাকাল্টির সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান।
 তিনি শিক্ষার্থীদের সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। আমাদেরকে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ধারণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাউবির শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি অ্যালামনাই গঠন ও ডিবেটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাউবির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কখনো শেষ হওয়ার নয়; তারা সবসময় বাউবি পরিবারের অংশ হয়ে থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার তাদের জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং পেশাগত জীবনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইন শিক্ষা কেবল পেশাগত জীবনের প্রস্তুতি নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাউবির শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের বিচারব্যবস্থা ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। পাশাপাশি তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন, স্কুল অব ল এর প্রভাষক রিচিমনি প্রমা ও সজল আহমেদ, বাউবি ল এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইটিভির সাংবাদিক হারুন উর রশীদ, ঢাকা জর্জ কোর্টের এডভোকেট গাজী হাসান মাহমুদ, এডভোকেট সুমন পারভেজ, এডভোকেট কাজল রায় এবং এডভোকেট শরীফ খান।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী লিটন হোসেন ও ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনুভা তুশিন। অনুষ্ঠানে ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্যসহ মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দদের ক্রেস্ট প্রদান করেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদেরকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদায়ী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর