বাউবিতে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৫ম ব্যাচের গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এ এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৫ম ব্যাচের গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের উদ্যোগে আজ সোমবার সকাল ১০ টায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লেকচার গ্যালারিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রান্তিক, শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা বিস্তারের মহান লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পথে অগ্রসর হয়েছে।
তিনি বলেন, গবেষণা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং জ্ঞানভান্ডারে নতুন সংযোজন, মানবকল্যাণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। গবেষকদের নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সঙ্গে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লেজিয়ারিজম ও গবেষণায় অনৈতিক চর্চা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন”।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘গবেষণার মানোন্নয়নে গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত কর্মশালা, গবেষক ফেলোশিপ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে আরও সমৃদ্ধ ও গবেষকবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাউবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণার বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি গবেষকদের মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের আহ্বান জানান এবং গবেষকদের বাউবির “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন’।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে গবেষণাকে শুধু ডিগ্রি বা পদোন্নতির মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মানসম্মত গবেষণার জন্য গবেষক ও সুপারভাইজারদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাউবিতে গবেষণার মানোন্নয়নে শক্তিশালী গবেষণা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বাউবিকে গবেষণার জন্য একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব গবেষণা পরিবেশ, সুপারভাইজারদের আন্তরিক সহযোগিতা, প্লেজারিজম চেক ব্যবস্থা চালু এবং সহজ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্কুল অব বিজনেস এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মঈনুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল এর ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসান, ওপেন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোছাঃ শিরিন সুলতানা, স্কুল অব এডুকেশ এর ডিন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও স্কুল অব ল এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের ৫ম ব্যাচের পিএইচডি গবেষকদের মধ্য থেকে ৩ জন গবেষক বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা গবেষণার গুণগত মান উন্নয়ন, মৌলিক গবেষণা পরিচালনা এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গবেষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা গবেষকদের নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ৫ম ব্যাচের এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৪১ জন গবেষক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের যুগ্ম-পরিচালক এমএস তাসলিমা খানম।






