পথসভা যখন জনসভায় পরিণত হয় ; উল্লাপাড়ায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে নারী-পুরুষের ঢল
আল-আমিন, উল্লাপাড়া :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নির্ধারিত একটি পথসভা মুহূর্তেই রূপ নেয় বিশাল জনসভায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
শনিবার বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত এই পথসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি এতটাই বাড়তে থাকে যে, পথসভাটি কার্যত জনসভায় পরিণত হয়। নারী, পুরুষ, যুবক ও বয়স্ক সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা : শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী আপসহীনভাবে কাজ করে যাবে। আপনারা যদি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে নির্বাচিত করেন তাহলে এমপির পাশাপাশি মন্ত্রী পাবেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, উল্লাপাড়ার মানুষ দলমত নির্বিশেষে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখাচ্ছেন, তা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নৈতিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তিনি সাধারণ মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় নেতারা জানান, উল্লাপাড়ায় দীর্ঘদিন পর এমন জনসমাগম তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তারা বলেন, পথসভা হিসেবে আয়োজন করা হলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি জনসভায় রূপ নেয় এটাই প্রমাণ করে জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা বাড়ছে।
সভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। পথসভা থেকে জনসভায় রূপ নেওয়া এই সমাবেশ উল্লাপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।







