চাকুরির জীবনে তিনি নাটোর ছাড়াও ডিএমপি, বগুড়া, রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ডিউটি করেছেন। দুই বছর পূর্বে নাটোর ট্রাফিকে বদলি হয়ে আসেন। এরপর হাজরা নাটোরের বাড়ি থেকেই ট্রাফিকে কর্তব্য কাজ করে যাচ্ছেন।
হাজরা নাটোরের স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮-৯ বছর পূর্বে পুলিশ কনস্টেবল নজরুল ইসলাম হাজরা নাটোর এলাকার তারু মিয়ার কাছ থেকে ৫-৬শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর ওই জমিতে ফাউন্ডেশন করে বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটি তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগমের নামে রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, বর্তমান জমিসহ বাড়িটির দাম প্রায় ৯০ লাখ টাকার কম হবে না। এছাড়াও নাটোর মৌজার বলারীপাড়া জয়নাল হাজীর বাড়ির পূর্ব-উত্তর পাশে ৫-শতাংশ জমির একটি প্লট রয়েছে। ওই জমির বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। প্রায় দেড় বছর পূর্বে আব্দুল বাসেদ মিয়া গংদের কাছ থেকে কিনেছেন। ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধি হওয়ায় সম্ভব্য বড় মেয়ে মিলির নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।
নাটোর হরিশপুর বাইপাস এলাকায় ৫-শতাংশের আরো একটি প্লট রয়েছে। ওই প্লটও বড় মেয়ের নামে। হরিশপুরের প্লটটির বর্তমান অনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকারও বেশি বলে এলাকাবাসী জানান। এসব সম্পদ স্ত্রী ও কন্যা সন্তানের নামে ক্রয় করা হয়।
ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল ইসলামের নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার কয়রা এলাকায় বাড়ি। তবে নামে-বেনামে একজন পুলিশ কনস্টেবলের বেতন-সম্মত আয় ও সম্পদের পরিমাণের মধ্যে কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে মহল্লাবাসীর মধ্যে। হাজরা নাটোর মহল্লাবাসীরা বলছেন, একজন সামন্য পুলিশ সদস্য এতো টাকা পায় কোথায়? এসব সম্পত্তি কিভাবে হলো। প্রতিদিন ব্যাগ ভর্তি বাজার, বিলাশবহুল চলাফেরা। চাকুরি করে কত টাকা বেতন পান ? গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পয়েন্টে সম্পত্তি ? এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
একজন পুলিশ সদস্য চাকুরি অবস্থায় স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন বা চাকর-বাকর এমনকি নিজ নামেও যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের (আইজিপির) পূর্বানুমতি ছাড়া নিজ জেলাসহ অন্য জেলায় জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট ক্রয় করে তা পুলিশ রেগুলেশনস অফ বেঙ্গল (পিআরবি) (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ ধারা অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এহা মূলত প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং অসদাচরণের শামিল।
শাস্তি: এর ফলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই অসদাচরণের জন্য বিভাগীয় মামলায় তদন্তে প্রমানিত হলে চাকুরি থেকে বরখাস্ত হবেন। তবে ১৯৭৯ ধারা অনুযায়ী সম্পদ আয়ের উৎসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করতে পারে। আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ফৌজদারি মামলা হবে। দেশের নতুন ভূমি আইন (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, (২০২৩) এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী, অবৈধভাবে বা তথ্য গোপন করে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার আইনি ঝুঁকি রয়েছে।
এ ব্যাপারে ট্রাফিক কনস্টেবল নজরুল বলেন, বাড়িটি আমার শ^শুরের টাকায় কেনা। আর এসব সম্পত্তি আমার মেয়ে কিনিছে। কিসের অনুমিত লাগবে। মেয়ে টাকা পেলো কোথায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মেয়ের জামাই র্যাংগস ভবনে চাকুরি করেন অনেক টাকা বেতন পায়!
নাটোর ট্রাফিক পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, তবে এই নামে একজন পুলিশ সদস্য আছে বাড়ি কোথায় তা জানি না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্ত এ ব্যাপারে বলবেন।
নাটোর পুলিশ সুপার মেহাম¥দ আব্দুল ওয়াহাব জানান, আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় অঞ্চল (দুদক) অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়য়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। তবে আপনাদের মাধ্যমে অনেক তথ্য পেয়ে থাকি। এমন তথ্য বা নিউজ করলে ইমেইলে পাঠান তদন্ত করা হবে।