রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ভেটেরিনারি পেশার কাঠামোগত সংস্কার ও তিন দফা দাবিতে গাকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। বেড়ায় গ্যালাক্সি স্কুল অ্যান্ড কলেজে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশীয় রিভলবার ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার কাজিপুরে‌র বালু ব্যবসায়ী হিল্লোলের মহালে অর্থদণ্ড  শিক্ষার্থীদেরই উদ্ভাবনে অবদান রেখে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে হবে- শিক্ষামন্ত্রী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কে বাধ্য করা হবে- মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান উল্লাপাড়ায় হাজী আব্দুল মোমিনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ২ হাজার পেয়ারা চারা বিতরণ উল্লাপাড়ায় মনোহারা মাঠ উন্নয়নে ৩ হাজার ইট দিয়ে সহযোগিতা করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মোমিন কাজিপুরে জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে গেছে জানেন না জনস্বাস্থ্য অফিসার  সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় জামায়াতের ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ

ভেটেরিনারি পেশার কাঠামোগত সংস্কার ও তিন দফা দাবিতে গাকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেটেরিনারি পেশার কাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, পেশাগত স্বকীয়তা ও অধিকার রক্ষায় তিন দফা দাবিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানববন্ধন করেছেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স (এফভিএমএএস) অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ। দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছেন। জনসংখ্যা ও প্রাণিসম্পদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রাণিজ আমিষ ও প্রাণি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও বেড়েছে।
একই সময়ে দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে জনবল কাঠামো সেই অনুপাতে সম্প্রসারিত হয়নি এমন দাবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পাকিস্তান আমলে ১৯৬০-এর দশকে থানা পর্যায়ে প্রাণিসেবা নিশ্চিত করতে ‘থানা সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন’ (TAVS) পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৩-৮৪ সালে নবম গ্রেডে ক্যাডারভুক্তির মাধ্যমে পদটি ‘ভেটেরিনারি সার্জন’ (VS) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ছয় দশক পরও উপজেলা পর্যায়ে একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে পুরো উপজেলার প্রাণিচিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ নামে ৪৯২টি নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে পদগুলো সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪৬টি এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে আরও ২৪৬টি। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগের উদ্দেশ্য ভেটেরিনারি স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম জোরদার করা হলেও পদটির গ্রেড, নিয়োগ যোগ্যতা ও পেশাগত কাঠামো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। তাঁদের আশঙ্কা, ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটদের দীর্ঘমেয়াদি বিজ্ঞানভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ও একাডেমিক শিক্ষার স্বতন্ত্র বিবেচনা না করে কোনো পদ কাঠামো তৈরি হলে তা পেশাটির ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দায়িত্ব বণ্টনে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়ঃ
প্রথমত, ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদটি নবম গ্রেডে উন্নীত করে এ পদে শুধু নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয়ত, ক্যাডার কাঠামোর বাইরে নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতির মাধ্যমে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের সমকক্ষ বা উচ্চতর পদে পদায়নের সুযোগ ভবিষ্যতে না রাখার দাবি জানানো হয়।
তৃতীয়ত, প্রাণিসম্পদ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি উপজেলায় চারটি করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ দ্রুত সৃজন এবং এসব পদে নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে ভেটেরিনারি অনুষদের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাসিম আহম্মেদ বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত শুধু দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়, প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেটেরিনারি জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষদীয় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ ও জনস্বাস্থ্য দুই ক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভেটেরিনারি পেশার জনবল কাঠামোকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মতে, তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে ভেটেরিনারি পেশার পেশাগত স্বকীয়তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে দেশের প্রাণিস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর