সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
হেলালের দৌরাত্ম,ঘুষ ছাড়া মিলছেনা কাঙ্ক্ষিত সেবা। শালিণ্য’র সভাপতি মাহফুজা খানম,৮ম বারের মত সম্পাদক কিশোর বালা। বাউবির এমএ এবং এমএসএস প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত। উল্লাপাড়ায় তিন গ্রামবাসীর উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ যশোরে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণ: ৯দিনেও উদ্ধার নেই কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যালের কর্মচারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ।  বৃষ্টিতে ভিজে তেলের অপেক্ষা যশোরে স্মরণকালের জ্বালানি সংকট, জনদুর্ভোগ চরমে যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ওপর গোবর, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ সলঙ্গায় ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ রাজু নামে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু।

হেলালের দৌরাত্ম,ঘুষ ছাড়া মিলছেনা কাঙ্ক্ষিত সেবা।

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

সাভার’ ঢাকা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি রাজধানী হতে প্রায় ২8 কিলোমিটার উত্তরে (গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে সড়ক পথের দূরত্ব) অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় ও ব্যস্ততম শহর এবং ঢাকা মেগাসিটির অন্তর্ভুক্ত এলাকা। সাভার বাংলাদেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ন উপজেলাগুলোর মধ্যে একটি। সাভারে বর্তমানে জনসংখ্যা ১৫ লক্ষাধিক।
মোট ২১৮ টি মৌজা রয়েছে এই উপজেলায় । অধিকাংশ মৌজার বিডিএস কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হলেও একেবারে শেষ দিকে রয়েছে অল্প কিছু মৌজার কার্যক্রম।
বড় বরদেশী মৌজা তার মধ্যে একটি, বিডিএস জরিপের নানা স্তর পার হয়ে এখন ৩০ ধারা মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে ।
আর এই মৌজার ৩০ ধারা কার্যক্রমের সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত নানা প্রকার হয়রানির শিকার হচ্ছেন জমির মালিকরা। বিগত সরকারের আমলে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, ঘুষ বানিজ্য ও সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগে স্থগিত হয়ে যায় সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের সকল স্তরের কার্যক্রম।
প্রায় দুই বছর পরে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে  পুনরায় চালু করা হয় সকল মৌজার কার্যক্রম। দূর্নীতির বিরুদ্ধে  কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনা ও কঠোর হুশিয়ারী থাকার পরও বিসি হেলাল উদ্দিন যেনো এক অপ্রতিরোধ্য নাম ।
উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উল্টো পথে হাটছেন তিনি। বড় বরদেশী মৌজার বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিন এর ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সেবা প্রত্যাশী জমির মালিকগন। জমির পরিমান অনুযায়ী নির্ধারিত রেটে টাকা আদায় করে থাকেন এই বিসি হেলাল উদ্দিন ।
এছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার নাম করে প্রতিনিয়তই সে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
জমির মালিকদের সাথে এবিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে হেলালের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চায়নি, তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছে হেলালের দূর্নীতির চঞ্চল্যকর তথ্য।
বড় বরদেশী মৌজার দুই হাজারেরও অধিক মামলার ৩০ ধারার আপত্তি শুনানি চলছে আলম নগরস্থ ১৭ নং রোডের সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ০২ নাম্বার কক্ষে ।
এই কোর্টের বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছে হেলাল উদ্দিন । সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ আব্দুল মালেক এর সরলতার সুযোগ নিয়ে ও তার নাম ব্যবহার করে, তাকে ম্যানেজ করার কথা বলে চলে বিসি হেলালের অনৈতিক লেনদেন ও ঘুষ বানিজ্য । কখনো জমির পরিমান অনুযায়ী, কখনো পর্চা / খতিয়ান প্রতি আবার কখনো বাদী বা বিবাদীর মামলা প্রতি টাকা দাবি করে থাকে এই পেশকার “হেলাল” । ভুক্তভোগী মামলার বাদী / বিবাদীরাও জমি হারানোর ভয়ে নিরুপায় হয়ে বিসি হেলালের দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে । এছাড়াও ঘুষ লেনদেনের সুবিধার্থে উক্ত ০২ নং  কোর্টের ভিতরে এবং বাহিরে “হেলাল” তার আত্মীয়দের নিয়ে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট বাহিনী, এই সিন্ডিকেট বাহিনীর মাধ্যমেও মক্কেলদের ম্যানেজ করানো, টাকা দিতে রাজি করানো ও টাকা দিতে রাজি না হলে জমি কর্তন বা মামলায় হেরে যাওয়া সহ নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অবৈধ লেনদেনও করে থাকে এই বিসি “হেলাল”।
এই কোর্টের অধিকাংশ মামলার বাদী ও বিবাদীগণ স্থানীয় না হওয়ায় হেলালের সাথে আপোষ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তাদের খতিয়ান কর্তন বা খতিয়ান বহাল রাখার জন্য টাকা দাবি করে থাকে হেলাল ও তার সিন্ডিকেট বাহিনী । টাকা দিতে না চাইলেই শুরু হয় নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানো । মামলা নিষ্পত্তি না করে বার বার ঘুরানো / তারিখ দেওয়া / হয়রানি করা । বাদী বিবাদী উভয়কে নিয়েই ইদুঁর-বিড়াল  খেলায় পারদর্শী এই হেলাল।
এছাড়াও এই হেলালের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিকেল ৪ টার পরও তার কোর্টের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ।
যেকোন মামলা/ফাইল হাতে নিলেই সে বুঝতে পারে কোন পক্ষ মামলা জিতবে । সেই মোতাবেক তাদের সাথে চলে দফা রফা। অফিসের ভিতরে কথা না বলে তার সিন্ডিকেট বাহিনী দিয়ে অফিসের বাইরে নিয়ে তাদেরকে নানা ভাবে বুঝানো হয়, “আপনার জমিতে ঝামেলা আছে টাকা দিলে স্যারকে ম্যানেজ করে আপনার কাজটা করে দিবো” এভাবেই প্রতিটি মামলার বেলায় ঘটছে এই ধরনের ঘটনা। বাদী/বিবাদী বাধ্য হচ্ছে তাদের সাথে আপোষ করতে। তাছাড়া, এই “হেলাল” বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মোটা অংকের লেনদেন অফিসের বাহিরেই করে থাকে বলে জানা যায় ।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সাভারে কর্মরত থাকা অবস্থায় গাজীপুরের বাঘিয়া মৌজার তসদিক স্তরের কাজও বাগিয়ে নিয়েছেন এই দূর্নীতির বরপুত্র “হেলাল উদ্দিন”।
ভূমি মালিকদের  দাবি, একজন বেঞ্চ সহকারী হয়ে কীভাবে তিনি অফিসারের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করছেন ? এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, বিষয়টি শুধু একজন কর্মচারীর অনিয়ম নয়; বরং এতে অফিসের সামগ্রিক সেবা প্রদান ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ।
সচেতন মহল বলছে, যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে সেটেলমেন্ট অফিসে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর