বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় চালকসহ তিন সিএনজি যাত্রী নিহত শেষ মুহূর্তে এসে বেড়ায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট বেড়ায় রাতের অন্ধকারে নদী ভাঙনে মসজিদ মাদ্রাসা দোকানপাট বিলীন  লালমনিরহাটে আধুনিক পশু জবাইখানার উদ্বোধন গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তানবিরুল ইসলাম রাজিব। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিউল আলম রবি। গাজীপুরসহ দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাবুল হোসেন।  কোনাবাড়ী বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বর্ণা চাকলাদার। কোনাবাড়ী বাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিফ সালিফ।

যমুনা নদীর পাড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের মিলন মেলা

রিপোর্টারের নাম : / ৮৪ বার পড়া হয়েছে।
সময় কাল : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

এস আর শাহ্ আলম স্টাফ রিপোর্টার: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যমুনার বিস্তীর্ণ নদীর পাড় ও খোলা জায়গাগুলো যেন ভ্রমণ প্রেমীদের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।ছুটিতে এসব স্থানে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া মানুষের অন্যতম একটি নেশা।

ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জেলাগুলোর মধ্যে, পাবনার বেড়া উপজেলা খুবই বিখ্যাত। তাই ছুটির দিন কিংবা ঈদ উৎসবে নারী-পুরুষসহ ছোটবড় সবাই ছুটে আসেন উপজেলার হাটুরিয়া – নাকালিয়া ইউনিয়নের পেচাকোলা যমুনা নদীর ঘাট ও কৈটোলা ইউনিয়নের আওয়াল বাঁধ যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকায়।

ঈদ ছাড়াও বিভিন্ন ছুটির দিনে ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী সকল ভ্রমণ পিপাসুরা অবসর সময় কাটাতে আসেন এখানে । প্রচুর মানুষ আসায় নদীর পাড়ে অনেক ছোট-বড় ফাস্টফুড খাবার এবং ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এখানে বেড়াতে আসা অনেককেই ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টের সামনে বেঞ্চে বসেই যমুনা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

আবার কেউ কেউ নৌকা কিংবা ট্রলার ভাড়া করে ঘুরে বেড়ান বিশাল যমুনার বুকে এবং চরাঞ্চলে।দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় নদী পাড়ে ছোটখাটো ব্যবসার প্রসার ঘটছে যা ওই স্থানের অর্থনীতির চাকাকে সচল করছে।উপজেলা ছাড়াও জেলা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে পড়ন্ত বিকেলে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজনসহ বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষের সমাগমে মুখরিত হয় যমুনার পাড়।

নদী পাড়ের এমন বিশুদ্ধ বাতাস আর প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্যে যেন প্রাণবন্ত করে তোলে ভ্রমণ দর্শনার্থীদের হৃদয়কে। সোমবার উপজেলার হাটুরিয়া – নাকালিয়া ইউনিয়নের পেচাকোলা ও আওয়াল বাঁধ ঘাটে ওই যমুনার পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-যুবকসহ নানা বয়সী হাজারো মানুষে মুখরিত যমুনার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প এলাকা । সদ্য বিদায়ী ঈদুল ফিতর এবং ছুটির দিন হওয়ায় এখানে কিছুটা বেশিই ছিল আনন্দ প্রেমি মানুষের উপস্থিতি।

এছাড়া ঈদ পরবর্তী বৈরি আবহাওয়ার কারণে বাড়িতে আটকে পড়া আনন্দ বিলাসী মানুষগুলোও ঈদের ছুটিতে অনুকূল আবহাওয়ায় ঘুরতে এসেছেন এখানে। নিরব প্রকৃতির বিশুদ্ধ নির্মল বাতাসে ভ্রমণ পিপাসুরা মেলে ধরেছেন নিজেদেরকে। যেন স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন তারা। নানা ঢঙে ছবি তুলছেন কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীরা।

কেউবা পরিবার নিয়েও ছবি তুলছেন। আবার অনেকেই প্রকৃতির সেই মনোহর দৃশ্যের ভিডিও ধারণে ব্যস্ত।শিশুরা মনের আনন্দে খেলছে। শিশুদের আনন্দে আনন্দিত হচ্ছেন বাবা-মা। ফুচকা, চটপটি, হালিম,আচার, বাদাম ঝালমুড়ি ও পাপড়সহ প্রায় ৪০ ধরণের নানা মসলা দিয়ে পানের দোকান এবং নানা মুখরোচক খাবারের দোকানে জমজমাট হয়েছে এলাকাটি । যা স্থানটির পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছে। পেচাকোলা ঘাটের দক্ষিণ অংশের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দুরে গিয়ে দেখা যায় আওয়াল বাঁধ ঘাট। এবং উত্তরে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে মোহনগঞ্জ থেকে শুরু করে মোট সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার যমুনা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্প এলাকা জুড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক অনন্য সৌন্দর্য স্মৃতি রয়েছে।

নদী পাড়ের শেষ মাথায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (সিসি ব্লক ) যেন বসার বেঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীরা, সেখান থেকে দেখা যায় নদীতে বেশ স্রোত বহমান। দূর চরে দেখা যায় সবুজে ঘেরা গ্রাম, দিনের আলো বিলানো শেষে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ডুবু ডুবু তখনও এখানে দলে দলে আসছিল বিনোদন প্রেমি মানুষেরা।

ঝালমুড়ি ও লেবুর শরবত দোকানি বিলাল হোসেন বলেন, বিকেল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৪- ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়। হালিম, চটপটি ও ফুসকা বিক্রতা রাসেল মোল্লা জানান, ঈদের দিন সে ২১ হাজার টাকা বিক্রি করেছে, অন্যন্য দিন তিনি ৮-১০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। এখানে সব সময়ই কম-বেশি মানুষ ঘুরতে আসেন। তবে, দুই ঈদে এখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হয় এছাড়া শুক্রবারেও মোটামুটি মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন।দর্শনার্থী বেশি হলে আমাদের হরেক রকম ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের ব্যবসাও ভাল হয় সেদিন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো.আব্দুল হামিদ সরকার বলেন ,
প্রায় বছর দুয়েক আগে দর্শনার্থীদের বসার জন্য পেচাকোলা নদীর ঘাটে তাঁর ইউনিয়ন থেকে রড সিমেন্ট দিয়ে ১৩ টি বেঞ্চ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আরও কিছু বেঞ্চ নির্মাণ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর