৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও গ্রেপ্তার নেই, উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়াতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালসাবাড়ী এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হাইব্রিড সিল্ক সুতা গোপনে খালাস করা হচ্ছিল, যার মাধ্যমে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুতা আমদানি করছে । এ সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলামিন জোয়াদ্দার নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা করে। এতে দৈনিক শ্যামল বাংলা পত্রিকার প্রতিনিধি তুহিন আলম, দৈনিক কালের কণ্ঠ এর প্রতিনিধি আতাউর রহমান রাজু এবং গ্রীন টিভি এর প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম এর উপরে হামলা হয় ।
হামলাকারীদের হামলায় সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি। বরং তারা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে আইনের হাত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদেমাঝে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যেতে পারে।
সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, এই হামলা শুধু ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর নয়—এটি স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
সিনিয়র সাংবাদিক এ আর জাহাঙ্গীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনা ঘটার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশাজনক।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুজ্জামান বলেন, এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে উল্লাপাড়া সহ সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা।







