কাজিপুরে ধর্ম সভায় বিএনপি- জামায়াত সংঘর্ষ ঘটনায় জামায়তের সংবাদ সম্মেলন
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের মিফতাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা কর্তৃক গত ৮ ডিসেম্বর আয়োজিত ধর্ম সভায় বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধায় উপজেলা জামায়েতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৬২, সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর ( সদর আংশিক) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো;
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম, ওয়া রহমাতুল্লাহ, আজ আপনাদেরকে একটি বিষয়ে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। গতকাল ৮/১২/২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১০:১৫ টার সময় সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবারি মিফতাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার বার্ষিক জালসার প্রধান মেহমান হিসেবে আমি মোঃ শাহিনুর আলম সিরাজগঞ্জ জেলা আমির, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য, এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জে- ১ কাজিপুর ও সদর আংশিক আসনের এমপি পদপ্রার্থী। আমি উপস্থিত হওয়ার পর মঞ্চের উপরেই আমার নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায়, এ সময় ৩/৪ জন কর্মী আহত হয়। আমি বক্তব্য শেষ করে সোনামুখীর উদ্দেশ্যে রওনা হলে স্থলবাড়ী ব্রিজের উপরে দ্বিতীয়বার আক্রমণ করে। এবং জামাত নেতা নজরুলকে দ্বিতীয় দফা আহত করে। তাকে রাস্তার উপর ফেলে তার বুকের উপর উঠে উপর্যুপুরি লাঠি, পাইপ, ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে যখম করে। সেখান থেকে সোনামুখী মহিষামুরা রাস্তায় তৃতীয় দফায় আক্রমণ করে এখানে তৃতীয় দফায় আবারো আক্রমণের শিকার হয় জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল, ডাক্তার নজরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা নুর আলম সহ প্রায় ১৪/১৫ জন নেতা কর্মী। এ পুরো ঘটনায় যারা জড়িত থেকে হামলা পরিচালনা করে তাদের মধ্যে অন্যতম;
১) আব্দুস সালাম তোতা মাষ্টার (৫৮), পিতা- মৃত সেজাব সরকার, পাঁচগাছি।
২) দোলা সরকার (৫৫) পিতা মৃত আঃ সরকার, গ্ৰাম পাঁচগাছি।
৩) জুয়েল, পিতা মৃত রব্বানী, রৌহাবাড়ি,
৪) নাইম বাবু (৩৫), মাতা নার্গিস (পত্রিকা বিক্রেতা),
৫) সোহেল রানা (৪৪) পিতা বারিক মেম্বার, পাঁচগাছি।
৬) আলামিন (৪০), পিতা হযরত আলী, স্থলবাড়ী।
৭) হিরা (৪০), পিতা জয়নাল মেম্বার, স্থলবাড়ী।
৮) রব্বানী (৪০) পিতা গোলাই, স্থলবাড়ী।
৯) রিপন (৩০), পিতা নজরুল ইসলাম, রৌহাবাড়ী।
১০) রুবেল (৪০), পিতা অজ্ঞাত, চালিতাডাঙ্গা।
১১) সোহেল রানা (৪৫), পিতা অজ্ঞাত, পাইকপাড়া।
১২) আলামিন (৪০), পিতা অজ্ঞাত, রৌহাবাড়ী।
১৩ মজনু (৪০), পিতা অজ্ঞাত, স্থলবাড়ী পূর্ব পাড়া।
১৪) ভুলু (৪০) পিতা অজ্ঞাত, স্থলবাড়ী।
১৫) হাতাকাটা জাহাঙ্গীর (৩৯), পাঁচগাছিসহ প্রায় ৫০/৬০ জন সন্ত্রাসী। আমি এই নেক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং অনতিবিলম্বে তাদের গ্ৰেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
মোঃ শাহিনুর আলম, আমির, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ও জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী সিরাজগঞ্জ -১। সংবাদ সম্মেলনে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার কর্ম পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ হাসান মনসুর মিলন, কাজিপুর উপজেলা শাখার আমীর সহকারী অধ্যাপক মোঃ জাহিদুল ইসলাম স্বপন, শুরা সদস্য ড. সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবারি মিফতাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসা কর্তৃক আয়োজিত ধর্ম সভায় বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় উভয় দলের এমপি প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। সংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়।







